এক অভিনেত্রীর বিষাদময় চলে যাওয়া

একসময় তাঁর মুখে বাঙালি দর্শক শুনত সাপ্তাহিক অনুষ্ঠানের সূচী, খবর পড়াতেও ছিলেন স্বচ্ছন্দ;নব্বইয়ের দশক থেকে বড় পরদায় হই হই করে এসে পড়লেন তিনি…সে হরনাথ চক্রবর্তীর ‘বেয়াদপ’ ছবিই হোক,কিম্বা অঞ্জন চৌধুরীর ‘বড় বউ’…তিনি মানেই নেগেটিভ চরিত্র,দর্শকদের রাগ ক্ষোভ বিরক্তি উৎপাদনে পটু তিনি,আবার ঋতুপর্ণ ঘোষ হোক বা অপর্ণা সেন, অঞ্জন দত্ত হোক বা মেন স্ট্রিমের অজ্ঞাত পরিচালক তার অভিনীত ছোটো ছোটো চরিত্র গুলিও তাঁর অভিনয়ে হয়ে উঠত জীবন্ত। হাল আমলে সিরিয়ালের হাত ধরে ফিরে এসেছিলেন। হয়ে উঠেছিলেন বাঙালি জীবনের চেনা মুখ,অন্তরঙ্গ সদস্য। একসময় করেছেন নাটক ও যাত্রা। গ্রামে গঞ্জের মানুষের ঘরের উঠানে পৌঁছে গিয়েছেন এ ভাবেই। হোক না নেগেটিভ চরিত্র,কিন্তু ন্যাচারাল অভিনয়ে তা করে তুলতেন জীবন্ত। এমনি এমনি তো আর সবার ভালোবাসা পান নি তিনি! আমাদের সবার প্রিয় রীতাদি,অভিনেত্রী এবং ঘোষিকা রীতা কয়রাল চলে গেলেন আজ ভোরে। সদাহাস্যময় প্রাণোচ্ছল ছিলেন রীতা, মাতিয়ে রাখতেন চারপাশের মানুষদের। অগাস্ট থেকে ভুগছিলেন লিভারের ক্যান্সারে। কিছুদিন যাবৎ ভরতি ছিলেন বেসরকারি এক হাসপাতালে। সেখানেই থেমে গেল তাঁর পথ চলা। রেখে গেলেন অনেক স্মৃতি, আর নিয়ে গেলেন অফুরান ভালোবাসা তাঁর প্রিয় দর্শকদের তরফ থেকে। কিন্তু কথায় বলে, অভিনেতা অভিনেত্রীদের মৃত্যু হয় না। তাঁর ছবির মধ্যে দিয়ে তিনি থেকে যাবেন চিরকাল। কে জানে,হয়ত সাজঘরে মেকআপ নিয়ে এক্ষুনি এসে বলবেন,আমি রেডি। স্ক্রিপ্টটা একবার বুঝিয়ে দেবেন প্লিজ?

Tags:
or

Log in with your credentials

Forgot your details?