সব চরিত্র কাল্পনিক নয়

খুনের পর খুন!

তাও তাদের মুখ জুড়ে অদ্ভুত সারল্য, আবার কখনো কঠিন চোয়ালে অস্বস্তিকর হাসি।

আর তাদের খুনের পদ্ধতি  তাদের কঠিন চোয়ালের থেকেও আরো বেশি কঠিন আর নির্মম।  বেশিরভাগ হত্যাই করা হয় এমন নাটকীয় ভাবে যে তাদের নামের সাথে ‘সাইকো’ বা ‘ ড্রামাটিক’ যে কোনো শব্দ অনায়াসেই জুড়ে দেওয়া যেতে পারে।  এই সিরিয়াল কিলার গুলো কখনো উঠে আসে ‘গ্যাংগস অফ ওয়্যাসেপুরের ‘- এর অমিতের আকারে আবার কখনো রিল লাইফ ছেড়ে রাঘব রামান -রা নেমে আসে রিয়াল লাইফের সেটে। এবং উঠে আসে এমন কিছু’ সাইকো কিলার’ চরিত্র যেগুলি একেবারেই কাল্পনিক নয় বরং ক্রুড় বাস্তব।

ভারতে সিরিয়াল কিলারের প্রথম  কাহিনি পাওয়া যায় শ’দুয়েক বছর আগের। এর পর একে একে বাক্সর বাইরে এসেছে রোমহর্ষক হত্যাকান্ডের কাহিনী।

 

সিরিয়াল কিলিং – এ সাইনাইডকে ব্যবহার করে মিডিয়াজগতে রীতিমতো সাড়া ফেলে দিয়েছিলো ‘সাইনাইড মোহন’  ওরফে মোহন কুমার। 

পেশায় প্রাইমারী বিদ্যালয়ে সাইন্সের শিক্ষক হলেও চিন্তাভাবনায় ছিলো অসামাজিকতা। মোহন অবিবাহিত মহিলাদের  টোপে ফেলে তাদের কে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে মিলনখেলায় মাততো। এবং বিয়ের আগে তাকে জন্মনিরোধক বড়ির নাম করে সাইনাইড গুলি খাইয়ে হত্যা করতো। শহর ছাড়ার আগে শিকারের সোনা-দানা টাকা -পয়সা নিয়ে চম্পট দিতো । ২০০৫-২০০৭ পর্যন্ত সে মোট ২০ জন মহিলাকে এই একই পদ্ধতিতে হত্যা করেছিলো। শেষব্দি ২০১৩-য় তাকে ফাঁসিকাঠে ঝোলানো হয়।

বহু খুনীর সারল্যে ভরা মুখ দেখে বোঝে মুস্কিল যে সত্যি কি সে খুনী হতে পারে? এবং সে যদি হয় ৮ বছরের শিশু হয় তার ক্ষেত্রে কি আদৌ ‘খুনী’ শব্দটা ব্যবহার করা যায় ভারতীয় সংবিধান অনুযায়ী? এই সিরিয়াল কিলার ১৮ কিংবা ৮৮ নয় বরং ৮ বছরের বালক যে তিন জন বাচ্চাকে হত্যা করে, তার মধ্যে ১ জন তার নিজের ৮ মাসের বোন খুসবু,  অপরজন ৬ মাসের ভাইজি এবং তারই প্রতিবেশী ৬ মাসের শিশুকন্যা। ভয়ংকর বিষয়টি আলোয় আসে প্রতিবেশী শিশু কে খুনের দায়ে তাকে ধরে নিয়ে যাওয়ার পর।  জানা যায় তার পরিবার তার দুই বোনের খুনের ঘটনা যানা সত্বেও কোনো স্টেপ নেয়নি শুধুমাত্র পারিবারিক সম্মানের কথা ভেবে।  ৮ বছরের  অমরদীপ সাডা কে যখন তার খুনের  কারণ জিজ্ঞাসা করা হয় তার উত্তর ছিলো শুধুমাত্র ঠোঁটের কোনের ক্রুড় হাসি।

২০১৫-র ‘ম্যায় অওর চার্লস ‘ ছবির রণদীপ হুডাকে নিশ্চয় মনে আছে? মিষ্টভাষী,  শরীরে আশ্চর্য মাধুর্য , সাথে ছুরির মতো তীঘ্নবুদ্ধি যা দিয়ে খুন হয়েছিলো ১২ জন  টুরিস্ট।  এই  ‘বিকিনি কিলার’ কিন্তু সিনেমার জগতের না বরং বাস্তব জীবনে চার্লস শোভরাজ যার উপর নির্মান হয়েছিলো ‘ম্যায় অওর চার্লস’ সিনেমাটি। ১৯৭৫-৭৬  ধরে সে বহু টুরিস্ট কে নিজের মিষ্টকথার জালে ফাঁসিয়ে তাদের লুঠ করে।  লুঠ করার পর  দুই বিদেশি মহিলাকে সে খুন করে ফেলে দেয় সমুদ্রের ধারে। তাদের  বিকিনি পরিধিস্থ অবস্থায় লাশ খুঁজে  পাওয়া যায়। তখন থেকে চার্লস পরিচিত হয় ‘বিকিনি কিলার’ নামেই। ১৯৭৭ এ তারও ঠিকানা হয় জেলখানা।

 

নারকেল তেলের বেআইনি পাচার থেকে নিষিদ্ধ পল্লীর ব্যবসায় নাম করেছিল অটো শংকর। ১৯৮৮ সালের ৬ মাসের ব্যবধানে ৯ জন কিশোরী তার শিকার হয়েছিলো। প্রাথমিক তদন্তে পুলিশের অনুমান ছিলো ডাউরির ভার বহন করতে না পারায় তাদের পরিবার ওই কিশোরীদের বেচে দেয়। পরে তদন্ত এগাতে বেড়িয়ে আসে আরো নির্মম কাহিনী ,  অটো শঙ্কর দাবি করে, কিছু রাজনৈতিক নেতা এই কিশোরীদের অপহরণ করে ধর্ষণ করেছিল। আর তাঁদের নির্দেশেই সে খুনগুলি করে।

সে সাধারণত এক মদের দোকানের সামনে এক  অটো-রিক্সায় মহিলাদের  অপহরণ  করতো এবং সেই ঘটনা থেকেই  গোরী শংকর থেকে হয়ে যায় অটো শংকর।

১৯৯৫ সালে সালেম জেলে ফাঁসি হয় অটো শঙ্করের।

 

 

সাইকো কিলিং নিয়ে সিনেমা বরাবরই দর্শকের মুখরোচক একটা বিষয়।  তাই তো চার্লস থেকে রামান সবাইকেই টেনে আনা হয় সিনেমা জগতের চারকোনা বক্সের মধ্যে। রামান রাঘবও ব্যাতিক্রম নয়। নওয়াজউদ্দিন সিদ্দিকির লাল চোখ আর নীল মুখের এডিট করা পোস্টার দর্শকের মনে থ্রিল এনেছিলো। তার থেকেও থ্রিলিং রিয়াল লাইফ রামান এর গপ্পো। রাঘব তার শিকারদের ভারী এক মুগুর দিয়ে মেরে  থেঁতলে দিতো। মনে করা হয় সে স্কিতজোফেনিয়া নামক মনোরোগী ছিল এবং সেটাই প্রধান কারণ যার জন্যে সে ২৩ জনকে হত্যা করার পরও আইনের হাত থেকে বেচে যায়।

 

 

অটো-শংকর,  সাইনাইড মোহন, অমরদীপ সাডা কাউকেই দেখে বোঝার উপায়  ছিল না তারা  সাইকো কিলিং এর মতো মনরোগে আক্রান্ত।  হতেই পারে ভিড় বাসে ঘামে ভিজে যাওয়া আপনার পাশের ভুঁড়িওয়ালা লোকটা কিংবা রেস্টুরেন্টে বসে চিকেন তন্দুরী তে কামড় দেওয়া আদমি কোনো না কোনো ভাবে ‘সাইনাইড মোহন’-দের জাতভাই!

Tags:

or

Log in with your credentials

Forgot your details?