ভুল করে আবিষ্কৃত বিজ্ঞানের দুটি মজার আবিষ্কার

ভুল থেকে যদি দারুণ কিছু হয়, তাহলে খারাপ কি? আর সেইসব “দারুণ জিনিস” যদি হয় পৃথিবীকে অবাক করে দেওয়া সব বৈজ্ঞানিক আবিষ্কার,তাহলে তো কোন কথাই নাই! মজার কথা হচ্ছে,  বিজ্ঞানের ইতিহাসে অনেক গুরুত্বপূর্ণ জিনিস আবিষ্কার হয়েছে যেগুলো আসলে আবিষ্কার করার কথা বিজ্ঞানিরা কল্পনাই করেননি । যা হওয়ার তা হয়েছে শুধুমাত্রই দুর্ঘটনা বা ভুলবশত। এমন কিছু আবিষ্কার আর তার পেছনের মজার সব ঘটনা নিয়ে ই আজকের এই লেখা।

 

মাইক্রোওয়েভ ওভেন

গবেষণাগারে খাওয়া–দাওয়া করা নিশ্চয়ই খুব গুরুত্বপূর্ণ নয়! তবে এই কাজটি করতে গিয়েই পার্সি স্পেনসার নামের এক আমেরিকান ইঞ্জিনিয়ার দারুন এক আবিষ্কার করে ফেলেন!তিনি ম্যাগনেট্রন নামে একটি ভ্যাকুয়াম টিউব নিয়ে কাজ করছিলেন, যেটা থেকে মাইক্রোওয়েভ বের হয়।

টিউবের সামনে দাঁড়িয়ে কী যেন ভাবছিলেন তিনি, হঠাৎ অবাক হয়ে লক্ষ্য করলেন মজার একটি ব্যাপার ঘটছে– তার প্যান্টের পকেটে থাকা চকলেটের বার গলতে শুরু করেছে!বিজ্ঞানী স্পেনসার ঠিক তখনই বুঝতে পারেন একটি দারুন আবিষ্কার ততক্ষণে তিনি করে ফেলেছেন।পরীক্ষা–নিরীক্ষার পর ১৯৪৫ সালে তিনি প্রথম মাইক্রোওয়েভ ওভেন তৈরি করেন, আকারে সেটি অনেক বড় একটি জিনিস ছিল। ১৯৬৭ সাল থেকে মাইক্রোওয়েভ ওভেন যুক্তরাষ্ট্রের ঘরে ঘরে ব্যবহৃত হওয়া শুরু হয়। এখন তো পৃথিবীজুড়ে মাইক্রোওয়েভ ওভেনের জনপ্রিয়।

 

এক্স–রে

এক্সরে বা রঞ্জন রশ্মি হচ্ছে একটি তড়িৎ চৌম্বক বিকিরণ। এর তরঙ্গদৈর্ঘ্য টেন ইনভার্স টেন মিটার যা সাধারণ আলোর চেয়েও অনেক অনেক কম। তরঙ্গদৈর্ঘ্য কম থাকার কারণে এটি যে কোনো পদার্থকে খুব সহজেই ভেদ করতে পারে।

“ক্যাথোড রে” আবিষ্কার হয়েছিল অনেক আগেই। কিন্তু গবেষকরা তখনও জানতেন না এটি ব্যবহার করে মানবদেহের কঙ্কালের ছবি তোলা সম্ভব হবে। ১৮৯৫ সালে জার্মান পদার্থবিদ ‘উইলহেম রঞ্জন’ একটি কালো কাগজে ঢাকা গ্লাস টিউবে ক্যাথোড রশ্মি চালিয়ে পরীক্ষা করছিলেন। তার প্রধান উদ্দেশ্য ছিল কাঁচ থেকে ক্যাথোড রে বের হয় কিনা সেটি দেখা। কিন্তু এমন সময় একটি মজার ঘটনা ঘটে গেল,তিনি লক্ষ্য করলেন,  তিনি যেখানে দাঁড়িয়ে আছেন তার কয়েক ফুট দূরে একরকম আলোক রশ্মি দেখা যাচ্ছে! তিনি ভাবলেন কার্ডবোর্ড কোথাও ফেটে গিয়ে হয়ত আলো বের হচ্ছে। কিন্তু পরে দেখা গেলো কার্ডবোর্ড ফেটে নয় বরং কার্ডবোর্ড ভেদ করে আলো বের হচ্ছে!ঘটনা দেখে তার মাথায় বিচিত্র একটি আইডিয়া এসে গেলো-  যে রশ্মি কার্ডবোর্ড ভেদ করতে পারছে তা মানবদেহ কেন ভেদ করতে পারবে না? যা ভাবলো তাই করলো, তিনি তার স্ত্রীর হাত সামনে রেখে পরীক্ষা চালালেন এবং ইতিহাস বদলে দেওয়া একটি ঘটনা ঘটলো- প্রথমবারের মতো কাটাছেঁড়া না করেই মানবদেহের কঙ্কালের ফটোগ্রাফিক ইমেজ তৈরি সম্ভব হলো! রঞ্জনের স্ত্রী নিজের কঙ্কালের ছবি দেখে আঁতকে উঠে বলেন, “আমি যেন সাক্ষাৎ মৃত্যুকে দেখতে পাচ্ছি চোখের সামনে!”

অদৃশ্য এই রশ্মির বৈশিষ্ট্য অজানা থাকায় রঞ্জন এর নাম দেন এক্স-রে। অবশ্য একে তার নাম অনুসারে অনেকে রঞ্জন রশ্মি নামেও ডেকে থাকে।

Tags:

or

Log in with your credentials

Forgot your details?